রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক নতুন দিক প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের সরকার। তারা জানিয়েছে, রুশ বাহিনীর পক্ষে বিশ্বজুড়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ১,৭৫০ এর বেশি সেনা লড়াই করছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা, যারা গতকাল বুধবার কিয়েভে ঘানা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
সাইবিহা বলেছেন, “আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি যে, রাশিয়া বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে আফ্রিকার নাগরিকদের এই যুদ্ধে জড়াচ্ছে। আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ১,৭৮০ এর বেশি নাগরিক রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে।” তিনি আরও জানান, আফ্রিকা মহাদেশের ৩৬টি দেশের যুবকদের কাছ থেকে এই সেনাদের আনা হচ্ছে। তারা চাকরির প্রলোভনে বা অন্যান্য প্রতারণার মাধ্যমে প্রথমে রাশিয়ায় নেওয়া হচ্ছে, পরে তাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়া জানান, রুশ বাহিনীতে লড়াইরত আফ্রিকান সেনাদের বেশিরভাগেরই কোনো অতীত সেনা বা নিরাপত্তা বাহিনীর অভিজ্ঞতা নেই। তারা সাধারণ চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে এবং পরে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, “অধিকাংশ এই আফ্রিকান সেনাদের আগেই কোনো নিরাপত্তা বা সেনা প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা নেই। তারা লোভে পড়ে, প্রতারণার শিকার হয় এবং শেষে তাদের বাধ্য হয়েই সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়।”
পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো এই প্রলোভন ও প্রতারণা বন্ধে কাজ করবে বলে সৌজন্য আলোচনা হয়েছে। ঘানা এবং অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলো এই পরিস্থিতি রোধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান ওকুদজেতো।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পরে রাশিয়া সেখানে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার অজুহাতে আগ্রাসন চালায়। ইউক্রেনের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। তখন থেকে এই সংঘাত চরম আকার ধারণ করে এবং এখনও চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশনায় এই অভিযান চলমান থাকলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো এর নিন্দা জানিয়ে আসছে।
