আফগানিস্তানের সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। রবিবার ভোরে এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ আহত হন। তালেবান সরকার এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে, উপযুক্ত জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগান সীমান্তের জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে এই বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই অভিযান চলাকালে ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার পাল্টা হিসেবে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে হামলার জেরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, নাঙ্গারহার এবং পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় স্কুল ও আবাসিক ভবনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যাতে নারী ও শিশুসহ অনেক হতাহত হয়।
এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাঙ্গারহার অঞ্চলে পাকিস্তানের হামলায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী ও অগ্রহণযোগ্য বলে দাবী করে উপযুক্ত জবাব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
বিবৃতি পাঠিয়েছে, যেখানে তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে দায়ী করে বলেছে, তারা বেসামরিক ও ধর্মীয় স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার জন্য দায়ী। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সময় মতো এই হামলার পরিমাণ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত।
এর আগে, পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতটি তালেবান ও সহযোগী সংগঠনের ক্যাম্পে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে।
এছাড়া, প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকা আইএসের একটি সহযোগী সংগঠনের ওপরও কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের মন্ত্রণালয় দাবি করে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় হামলাগুলো ‘আফগানিস্তানভিত্তিক সংগঠনের নেতৃত্বে হয়েছে’—এমন প্রমাণ তারা দেখিয়েছে।
পাকিস্তান একবার আবারো reiterate করে বলেছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যাতে হামলা চালাতে না পারে, সেই জন্য তালেবান সরকারকে বারবার অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু কাবুল এই বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে, খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় এক নিরাপত্তা ব stakeholderে আত্মঘাতী হামলাই ঘটেছে, যেখানে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হয়েছেন।
