ইরান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক মহড়া

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ব্যাপক সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই মহড়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি বিমান ও নৌযুদ্ধ উপকরণ দ্রুত মোতায়েন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

মঙ্গলবার মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘মার্কিন বিমানবাহিনী মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বহু দিনের একটি প্রস্তুতি মহড়া পরিচালনা করবে, যাতে সেন্ট্রাল কমান্ড এলাকা জুড়ে যুদ্ধ বিমান মোতায়েন, শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকে থাকার ক্ষমতা পরীক্ষা করা যাবে।’’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে মহড়াটি কয়েক দিন চলবে এবং আঞ্চলিক অংশীদার ও বেসামরিক এবং সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হবে।

সেন্টকম বলেছে, নবম বিমান বাহিনী (এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল) নেতৃত্বে এই মহড়া দ্রুত চলমান বিমান এবং কর্মীদের জন্য পদ্ধতি যাচাই, বিচ্ছিন্ন অবস্থান থেকে পরিচালনা এবং ন্যূনতম লজিস্টিক পদচিহ্ন রেখে মিশন বজায় রাখায় গুরুত্ব দেবে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের বিমান বাহিনী কেন্দ্রীয় এবং সম্মিলিত বাহিনী বিমান কম্পোনেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেরেক ফ্রান্স বলেছেন, ‘‘আমাদের বিমানবাহিনী প্রমাণ করছে যে তারা কঠিন পরিস্থিতিতে — নিরাপদে, সুনির্দিষ্টভাবে এবং আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে — শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে এবং যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।’’

এরই মধ্যে এ এলাকায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইরানের আরও কাছে অবস্থান করছে। সেন্টকম আগেই জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে যাত্রা করে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ভারত মহাসাগরের পথ ধরে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের জলসীমায় প্রবেশ করেছে, তবে তা এখনও সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণের জন্য প্রস্তুত নয়।

রণতরীতে এফ-৩৫ ও এফ/এ-১৮ টাইপের যোদ্ধা বিমান, ইএ-১৮জি গ্রোলার ইলেকট্রনিক-ওয়ারফেয়ারের প্লেন এবং গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে, যা বিমান ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ায়। ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অভিযানের জন্য বিকল্প পথ থাকবে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে তাদের আকাশসীমা বা সুবিধা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবহার করতে দেয়নি।

এই মোতায়েন ও মহড়ার আচরণকে ঘিরে ইরানের ভেতরও উত্তেজনা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্য করে বড় পরিসরের আক্রমণের পরিকল্পনা করেছে, এবং এজন্য সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। মিডল ইস্ট আই সূত্রে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সপ্তাহের শেষের দিকে আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সময়সূচি বদলানোর সম্ভাবনাও আছে।

কোঁফাইনাশনে তিনি জানান, ‘ইরানে হামলা করলে দেশটির পাল্টা প্রতিক্রিয়া কেমন হবে’—এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনায় ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে।

উভয়পক্ষের অবস্থান কড়াকড়ি হওয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধাত্মক হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা করেছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

ঘটনাবলীর তথ্যসূত্র: সেন্টকম, ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকার, মিডল ইস্ট আই, ইরান ইন্টারন্যাশনাল।