বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। একাত্তরে তাদের কারণে দেশের জনগণ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল এবং তারা লুটপাটও চালিয়েছিল। আজ আবার তারা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোটের জন্য আসছে, তবে আমরা (বিএনপি) স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলি। আমরা যুদ্ধ করে এই দেশ মুক্ত করেছিলাম, কখনো অন্যের依র ওপর নির্ভর করিনি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কান্দরপাড়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আজও তাজা হয়ে ওঠে। আমরা নিজেদের রক্তে লালন করে এই স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে হুঁকুমত নিয়ে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলাম। কেউ বাহির থেকে এসে আমাদের জন্য যুদ্ধ করেনি। নিজস্ব সংগ্রামে নিজেদেরই স্বাধীনতা অর্জন করেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা তখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, আজ তারা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোট চাচ্ছে। আপনাদের বিচার করতে হবে—they স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না, নাকি বিপক্ষে।’
অন্য এক বক্তব্যে তিনি জানান, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ড মা-বোনদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি হাতিয়ার যেখানে তারা পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য সরাসরি উপকৃত হবেন।’
এছাড়াও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর কথা জানান মির্জা ফখরুল। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা নানা সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নতিতে স্বাস্থ্যকার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি আপনাদের ধানের শীষে ভোট চাই। আপনারা যখন আমাকে সমর্থন করেন, তখন আমি সংসদে বসে জনগণের জন্য কথা বলার চেষ্টা করি।’
পথসভায় উপস্থিত অনেক ভোটার মঞ্চে উঠে বিগত সময়ে সংসদ সদস্য হিসেবে মির্জা ফখরুলের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। তারা কৃষি কাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পসহ অন্যান্য উন্নয়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতের উন্নয়নের জন্য প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নির্বাচিত হলে গ্রামের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
