ট্রাম্পের ৮ দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এলো

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো পরিস্থিতি ও গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু পরিবর্তন আনলেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনার পর, এখন আর তারা আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। আগে জানা গিয়েছিল, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই আট দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল।

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) অংশগ্রহণের সময়, ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে তার বৈঠক খুবই ফলপ্রসূ ছিল। এই বৈঠকের ভিত্তিতে তারা ভবিষ্যতের জন্য একটি গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত চুক্তির রূপরেখা তৈরি করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি এই সমাধান চূড়ান্ত হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সদস্য দেশের জন্য একটি অসাধারণ ঘটনা হবে।

তাঁর ঘোষণা, ‘এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আমি পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা শুল্ক আরোপ করব না।’ তবে, ট্রাম্প এটাও জানান যে, গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ নামক বিষয়টির ওপর আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অগ্রগতির বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তি অংশ নিচ্ছেন, যারা সরাসরি ট্রাম্পকে জানাবেন।

এর আগে, দাভোসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই থাকা উচিত। তিনি বলেছিলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলকে দখলের জন্য কোনও প্রকার চাপ প্রয়োগ করা হবে না। ট্রাম্পের মতে, উত্তর মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে এবং প্রতিযোগিতা আরও বেড়েই চলেছে, তাই এই অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে, ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি অনুযায়ী, তারা গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের ইচ্ছে মতো সেনা মোতায়েন করতে পারে। বর্তমানে, দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।

রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কারণে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তার চাহিদাও বেড়েছে। ট্রাম্প ঐ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের জন্য চাপ দেয়ার পেছনে ন্যাটোর অজুহাত দেখালেও, ডেনমার্ক নিজেও এই অঞ্চলের এক স্বায়ত্তশাসিত দেশ।

তবে, গ্রিনল্যান্ড কিনে আনার বিষয়ে এখনও কোনও চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত, ট্রাম্প পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্র France, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আসা পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। এই শুল্কের হার জুনের মধ্যে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রথমে এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সব ইউরোপীয় দেশের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশেও শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ছিল। তবে বুধবার, ন্যাটোর সদস্য এই দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর, ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট হুমকি প্রত্যাহার করেন। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে, পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা শুল্ক আমি আরোপ করব না।

আলোচনার এই পরিবর্তনের পর, ট্রাম্প আরও জানান, তিনি দ্রুত আলোচনা চান গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য, তবে স্পষ্ট করে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনও শক্তি প্রয়োগ করে ভূখণ্ডটি দখল করবে না।