সর্বশেষঃ
সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন গত তিন নির্বাচনে কেন ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠায়নি, জানালেন প্রেস সচিব পশ্চিমবঙ্গে গাইতে এসে মবের শিকার বলিউডের দুই শিল্পী প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু আর নেই ‘কাভি খুশি কাভি গাম’-এর সিক্যুয়েল আসছে! ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা: আলাদা আয়োজনের কারণ খুলে বললেন হেমা মালিনী প্রেক্ষাগৃহে আগুন জ্বালিয়ে উল্লাস প্রভাসের ভক্তদের তামিমের প্রসঙ্গে ধারাবাহিক পোস্ট, মিঠুনের মন্তব্য ‘ভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে’ বিভাগীয় পর্যায়ে আন্তঃকলেজ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন সাকিনা আজাহার টেকনিক্যাল কলেজ বিগ ব্যাশে রিশাদের রেকর্ড ভাঙলেন সাকিব ৭-০ গোলে জয়লাভ বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল
গাজায় চিকিৎসার অভাবে রোগীদের করুণ মৃত্যুর শঙ্কা

গাজায় চিকিৎসার অভাবে রোগীদের করুণ মৃত্যুর শঙ্কা

গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ এবং আগ্রাসনের কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, যার ফলে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার যুদ্ধের পূর্ব সময়ের তুলনায় তিনগুণ বেড়ে গেছে। গাজার একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল ‘টার্কিশ-প্যালেস্টাইনিয়ান ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল’ ইসরায়েলি বর্গাযুদ্ধে ধ্বংসের মুখে থাকায় প্রায় ১১ হাজার রোগী এখন কোনো চিকিৎসা সেবা না পেয়ে মৃত্যুর দণ্ডক্ষেতে দাঁড়িয়ে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গাজা থেকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মতো জরুরি ওষুধের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এর ফলে, গাজায় এখন ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার সমান। একজন ক্যান্সার চিকিৎসক মোহাম্মদ আবু নাদা বলেন, তারা চিকিৎসার সমস্ত সরঞ্জাম এবং সক্ষমতা হারিয়েছেন। বর্তমানে তারা নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হলেও সেখানে কোন নির্ণয়যন্ত্র বা কেমোথেরাপির ওষুধ নেই। তিনি আক্ষেপে বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির দোহাই দিয়ে কিছু বাণিজ্যিক পণ্য যেমন চকোলেট, চিপস বা বাদাম প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, ক্যানসার বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ কোনোভাবেই প্রবেশ করতে দিচ্ছে না সরকার। তার মতে, এটা স্পষ্ট যে, এটি কেবল প্রচারণামূলক কৌশল। বর্তমানে গাজায় ক্যানসার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ওষুধ ও প্রোটোকল সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। মানবিক এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হানি নাঈম নামের এক রোগী জানিয়েছেন, তিনি ছয় বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। আগে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে চিকিৎসা নিতেন, কিন্তু এখন গাজায় আটকা পড়ে আছেন এবং রেডিওথেরাপি পাচ্ছেন না। মোহাম্মদ আবু নাদা জানান, প্রতিদিন খান ইউনিস এলাকায় দু’ থেকে তিন জন ক্যানসার রোগী মারা যাচ্ছেন। ব্যথানাশক ওষুধের তীব্র সংকটের কারণে এখন মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের ব্যথা উপশম করাও সম্ভব নয়। বর্তমানে তিন হাজার ২৫০ জন রোগীর বিদেশে চিকিৎসার দরকার থাকলেও রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা গাজা থেকে বের হতে পারছেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, গাজায় ক্যানসার চিকিৎসা প্রায় ৫০ বছর পুরোনো অবস্থায় ফিরে গেছে। সারা শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লেও প্রতিরোধের কোনও উপায় নেই। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গাজা ছেড়ে চলে গিয়েছেন, আর বেঁচে থাকা চিকিৎসকরা শুধুমাত্র চোখের জল ফেলে রোগীদের পাশে থাকছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার চিকিৎসা সরঞ্জাম বা বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানালেও কোনো উন্নতি হয়নি। এই নিঃশব্দ ঘাতক ব্যাধি ও চিকিৎসার কৃত্রিম সংকট হাজারো ফিলিস্তিনির জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Shipon tech bd