ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় শেষ রাতে ও ভোরের দিকে রাজধানীর প্রধান সামরিক ঘাঁটির বিভিন্ন অংশে সম্প্রতি বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। সামরিক স্থাপনাগুলোর কিছু অংশে প্রবল আগুন জ্বলে উঠে এবং সেখানে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিস্ফোরণগুলো মূলত কারাকাসের দক্ষিণে অবস্থিত ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি ফরচুনা থেকে এসেছে। আল জাজিরার প্রতিনিধি লুসিয়া নিউম্যান জানিয়েছেন, গত রাত থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত ফরচুনার ভেতর ও তার আশপাশে দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে চলেছে।
বিস্ফোরণের ফলে সেই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নিউম্যান বলেছেন, “ফরচুনা ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। আমরা এখন পর্যন্ত জানাতে পারছি না, এই বিস্ফোরণের পেছনে কী কারণ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত মেক্সিকোতে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আবার অনেকে বলছেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সরানোর জন্য দেশটির আভ্যন্তরীণ শক্তি বা সেনাবাহিনী সরকারবিরোধী নাশকতা চালাচ্ছে। তবে, এখানো পুরো সত্য pieces তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এই বিস্ফোরণে কারাকাসের আশপাশের এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আল জাজিরার প্রতিনিধির কাছে একথা জানিয়ে নিউম্যান বলেছিলেন, “ফরচুনা ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর মূল ঘাঁটিপ্রধান। এখন পর্যন্ত এই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারনে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এর পেছনে রাজনৈতিক বা সামরিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।”
অন্যদিকে, কারাকাসে এই ঘটনাক্রমের খবর পেয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের সাথে যোগাযোগ করে। তবে পেন্টাগনের কোনো কর্মকর্তা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষে কথা বলেছেন। বিশেষ করে ২৯ ডিসেম্বর তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে এবং দেশ ছেড়ে চলে যেতে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে যখন ট্রাম্প প্রথমবারের মত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করতেন। দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার পরও তার ভেনেজুয়েলার ব্যাপারে মনোভাব পরিবর্তিত হয়নি।
অতঃপর, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সময়ে ভেনেজুয়েলার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে তিনি ঘোষণা দেন, বেশ কিছু ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলোকে দেশের বন্দরে প্রবেশ বা থেকে বের হওয়ার সময় জব্দ করা হবে।
নির্বাচনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার চারটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে, যা মূলত তেল রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত হতো। এইসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ওিং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা
Leave a Reply