দুই দিনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র দুই কেন্দ্রীয় নেতা নিজেদের পদত্যাগ করেছেন। বুধবার দুপুরে দলের যুগ্ম-সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীেন নিজের ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন যে, দলটি পুরোনো উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা ও অবৈধ চক্রের সঙ্গে আপস করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দলের নেতারা মতের verschillen ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাপের কাছে নতিস্বীকার করেছেন, যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। এর ফলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, দল থেকে পদত্যাগ করবেন। একই সময়ে, আরেক নেতা মুহাম্মদ মুরসালীন এনসিপির পক্ষ থেকে অনলাইনে তার পদত্যাগপত্র পাঠান দলটির আহ্বায়কের কাছে। তিনি দলের বিরুদ্ধে ‘বিরোধীদলীয় অপপ্রচার এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য পশ্চিমা শক্তির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার’ অভিযোগ তোলেন। এই দুই নেতার পদত্যাগের মাধ্যমে একদিনের মধ্যে এনসিপি থেকে মোট আটজন নেতা তাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগে, গত ঠিক একই দিন দুপুরে নেতাদের মধ্যে জোটের সমালোচনা ও বর্তমান নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলেন, ও দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর জোটের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতারা আহ্বায়কের কাছে স্মারকলিপি দেন। উল্লেখ্য, এই পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয় যখন দলের কেন্দ্রীয় নেতা তারেক রহমান দেশে ফেরেন। তার সমর্থনে একই দিন পদত্যাগ করেন দলের যুগ্ম-সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক, এরপর অন্যান্য নেতারাও নিজেদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ৩০ ডিসেম্বর আরও দুই নেতা—কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল ও কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী—নিজেদের দলে থাকাকালীন পদত্যাগ করেন। এরপর ৩১ ডিসেম্বর রাতে, যুগ্ম-আহবায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এই ধারাবাহিক পদত্যাগের ঘটনায় এনসিপির ভবিষ্যৎ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, আর দলের ভিতরে অবস্থিতির সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply